জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক ছদ্মবেশ ও প্রশাসনিক নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন
পিন্টু সিফাত নামেই যাকে এলাকায় সবাই চেনে (৪৭), পিতা পিন্টু মিয়া, জেলা—নেত্রকোনা। স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলামিনের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
বর্তমানে তাকে ছাত্রদলের সঙ্গে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা রয়েছে। জানা গেছে, তিনি ময়মনসিংহ নগরীর কাচিজুলি মোড়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন এবং ওই এলাকাতেই নিয়মিত রাজনৈতিক আড্ডা ও যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারী ও সচেতন মহলের অভিযোগ—আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত বহু ব্যক্তি এখন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে বিএনপির আশ্রয়–প্রশ্রয়ের ছায়ায় ঢুকে পড়ছে। এই সুবিধাবাদী ও দ্বিমুখী রাজনৈতিক চরিত্রই বর্তমানে চলমান আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন।
এই প্রেক্ষাপটেই প্রশ্ন উঠছে, জুলাই আন্দোলনের এক বছর পার না হতেই ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড কি এই রাজনৈতিক অপসংস্কৃতিরই ফল? নিহতের সহকর্মী ও আন্দোলনকারীদের দাবি—এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কাদের প্রশ্রয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
আরও অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের একটি অংশ এখনো আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী শক্তির পক্ষেই কাজ করছে বলে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিচারহীনতা, প্রশাসনিক নিরবতা এবং গোপন আশ্রয়–প্রশ্রয়ই একের পর এক রক্তপাতের পথ তৈরি করছে এবং আন্দোলনের কর্মীদের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্দোলনকারীদের ভাষায়,
“এই দ্বিচারিতা আর চলতে পারে না। রাজনৈতিক ভণ্ডামির পর্দা একদিন না একদিন ছিঁড়বেই। ওসমান হাদীর রক্তের জবাব দিতেই হবে। প্রশাসনকে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হবে, নইলে জনগণই ইতিহাসের কাঠগড়ায় কঠিন রায় দেবে।”



মন্তব্যসমূহ