ময়মনসিংহ জেলায় মাদকের বিস্তার নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলায় মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে কঠোর ও সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সম্প্রতি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মাহবুবুল হকের যোগদানকে কেন্দ্র করে এই প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়লে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হবে।
সুশীল সমাজের উদ্বেগ
শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, আইনজীবী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা একাধিক আলোচনা সভায় বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়—একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের মতো মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের মধ্যে আসক্তির হার বাড়ছে। এর ফলে চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা এবং পারিবারিক অশান্তির ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, “নিয়মিত অভিযান যথেষ্ট নয়। মাদক চক্রের মূল হোতা ও বড় সরবরাহকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার না করলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।”
নতুন ডিবি ওসিকে ঘিরে প্রত্যাশা
নতুন ডিবি ওসির প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা স্পষ্ট। স্থানীয়দের বিশ্বাস, পেশাদারিত্ব, সততা ও কঠোরতার সমন্বয়ে পরিচালিত হলে মাদকবিরোধী অভিযানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে—
মাদক চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার
সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে নজরদারি বৃদ্ধি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় বিশেষ অভিযান
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা
জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার
প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
উপসংহার
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। নতুন ডিবি ওসির নেতৃত্বে যদি সুপরিকল্পিত ও কঠোর অভিযান পরিচালিত হয়, তবে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়—প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেয় এবং ময়মনসিংহ কত দ্রুত মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়।
































