নেত্রকোনা বিএডিসি থেকে সার পাচার! কেন্দুয়া রামপুরায় গ্রামবাসীর হাতে ট্রাক আটক, এনসিপি প্রার্থী ফাহিম খান পাঠানের নাম ঘিরে তোলপাড়

 











নেত্রকোনা:
নেত্রকোনা সদর বিএডিসি ভবন থেকে সরকারি বরাদ্দকৃত কৃষি সার পাচারের ভয়াবহ চক্র আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গুদাম থেকে সার বেআইনিভাবে বের করা হয় এবং তা কেন্দ্রীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেন্দুয়া উপজেলার রামপুরা বাজারে আনা হয়। সেখানে গ্রামবাসী সরাসরি ট্রাকটি আটক করে, যা অভিযোগ অনুযায়ী পাচারকৃত সরকারি সার বহন করছিল।

তবে শুধু পাচারকারীরা নয়, এই ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদেরও যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক, দুইজন কৃষি কর্মকর্তা এবং খালিয়াজুরি কৃষি অফিসার সহ স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দুয়া থানা পুলিশের কিছু সদস্যের সাহায্যে সার অবৈধভাবে ছাড়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএডিসি ভবনের ভেতরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ছায়া ছাড়া এই পাচার সম্ভব নয়। গ্রামবাসীরা প্রকাশ্যে বলছে—
“সরকারি গুদাম থেকে সার বের হচ্ছে, প্রশাসন নীরব, অথচ সরকারি কর্মকর্তারাও এতে যুক্ত। এটি আর সাধারণ দুর্নীতি নয়, এটি একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট।”

এ ঘটনার সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী অংশ হলো—সিন্ডিকেটের কথোপকথনে এনসিপি নেত্রকোনা সদর–০২ আসনের সংসদীয় প্রার্থী ফাহিম খান পাঠানের নামও উঠে এসেছে। এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। প্রশ্ন তুলছে—
“সিন্ডিকেটকে কে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় দিচ্ছে? কার ছায়ায় এত বড় পাচারচক্র এত বেপরোয়া সাহস দেখাচ্ছে?”

গ্রামবাসী আরও বলছে—
“কৃষকের অধিকার লুট করার মতো সিন্ডিকেট আর ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক ছায়া সহ্য করবে না। এ ধরনের অপরাধে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা সরকারি পদবী কোনো রেহাই দিতে পারবে না।”

ঘটনার পর প্রশাসনকে অবগত করা হলেও এখনও কোনো তড়িৎ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে জনমনে সন্দেহ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে—
“প্রশাসন কি সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কাছে নীরব হয়ে পড়েছে?”

স্থানীয়দের দাবি স্পষ্ট—

নেত্রকোনা বিএডিসি ভবনের ভেতরের দুর্নীতিবাজদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা হোক।

সার–মাফিয়া সিন্ডিকেট ও তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকদের মুখোশ উন্মোচিত করা হোক।

পাচার ও দুর্নীতিতে জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


গ্রামবাসীর ভাষায়—
“এবার আর কোনো সিন্ডিকেটের রাজনীতি চলবে না। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা ছাড়া আমাদের শান্তি নেই।”

এই ঘটনা দেশের কৃষক ও সাধারণ জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য প্রশাসনের দায়িত্বকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্থানীয়রা আশা করছে, সরকার ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।


---




মন্তব্যসমূহ